আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান নিতে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’ নামে নতুন একটি গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। রোববার দিল্লির মালব্য স্মৃতি ভবনে গোষ্ঠীটির প্রথম সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচির সমালোচনা করেন বক্তারা।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির কনট প্লেসসহ বিভিন্ন এলাকায় সিজেপির বিক্ষোভ চলার মধ্যে নতুন গোষ্ঠীটির আত্মপ্রকাশ ঘটল। সমাবেশে লাল হিট জনতা পার্টির প্রধান অয়ন ভাটনগরসহ অন্য বক্তারা সিজেপি, কংগ্রেস ও বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা করেন।
বক্তাদের অভিযোগ, এসব বিক্ষোভ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অয়ন ভাটনগর বলেন, অল্প সময়ের নোটিশেও বিপুলসংখ্যক মানুষকে একত্র করা সম্ভব, তা দেখানোই সমাবেশের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আহ্বান জানালে আরও কত মানুষ সমবেত হতে পারেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ না থেকে সমর্থকদের রাজপথে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান ভাটনগর।
বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি ‘পোকামাকড়’ ও ‘তেলাপোকা’র মতো শব্দ ব্যবহার করেন। তাঁর দাবি, দুর্গাপূজা থেকে দীপাবলি পর্যন্ত সময়টি ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে দিল্লির বড় বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসে বিক্ষোভের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া মেনে নেওয়া হবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবির সমালোচনা করে ভাটনগর বলেন, এ ধরনের দাবি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা দুর্বল করতে পারে। তাঁর মতে, কোনো গোষ্ঠী ৫০ হাজার মানুষ জড়ো করতে পারলেই তাদের দাবি মেনে নেওয়া যায় না। ২০২৩ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য চালু হওয়া পদ্ধতিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভাটনগরের দাবি, গণতন্ত্র রক্ষার লক্ষ্যেই লাল হিট জনতা পার্টি গঠন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সিজেপির আন্দোলনের পেছনে কংগ্রেস ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সমর্থন রয়েছে। এসব গোষ্ঠী বিজেপি সরকারকে সরিয়ে নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সমাবেশে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের কথিত দুর্ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন ভাটনগর। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কথক নৃত্যশিল্পী রিচা গুপ্তও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানান। অন্যদিকে, সাংবাদিক পবন দাবি করেন, আন্দোলনের কারণে ব্যবসায়ীদের ইতোমধ্যে তিন হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে ১০ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। তবে এই আর্থিক ক্ষতির দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো যাচাই বা প্রামাণ্য হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি।
সমাবেশের বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে এসে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার এবং জাতীয়তাবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র: এনডিটিভি